বৃহঃস্পতিবার, ২১শে মে ২০২৬, ৭ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | ই-পেপার
ব্রেকিং নিউজ:
  • সারাদেশে জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আগ্রহী হলে আপনার সিভি ই-মেইল করতে পারেন। ই-মেইল dailyvobnews@gmail.com
সংবাদ শিরোনাম:
  • তেলের নতুন দাম আজ: এপ্রিলে সংকটের ভয় নেই, ডিজেলের বড় মজুদের সুখবর দিল মন্ত্রণালয়
  • গুম হওয়া ব্যক্তিদের ‘জুলাইযোদ্ধা’ স্বীকৃতির দাবি: সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন তাহসিনা রুশদীর লুনা
  • তেলের বাজারে অস্থিরতা: সাশ্রয় করতে 'হোম অফিস' ও স্কুল-কলেজে অনলাইন ক্লাসের কথা ভাবছে সরকার
  • সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে অভিযোগের পরই সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি রেজাউল হাসান
  • ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ আর নয়, নতুন পে স্কেলের দাবিতে উত্তাল হচ্ছে সরকারি কর্মচারীরা
  • এবার বেতন পাবেন খেলোয়াড়রা: ১২৯ ক্রীড়াবিদকে কার্ড দিলেন প্রধানমন্ত্রী, লক্ষ্য ৫০০ জনের কর্মসংস্থান
  • এক নজরে সংসদীয় বিশেষ কমিটির বৈঠক
  • তেলের দাম বাড়বে না, তবে পাচার করলেই কঠোর ব্যবস্থা
  • সংসদ অধিবেশনে নাহিদ ইসলামের হুঙ্কার: জুলাই সনদের ভিত্তিতেই এ সংসদ, গণভোটের রায় অমান্য করা যাবে না
  • ফুরিয়ে আসছে পেট্রোল, বাড়ছে অস্থিরতা: মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞের ভয়াবহ পূর্বাভাস

একই পরিবারের ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল চীন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত:
২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭:২৪

মিয়ানমারে বিলিয়ন ডলারের অপরাধ সাম্রাজ্য চালানো গ্যাংয়ের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে চীন। দেশটিতে কুখ্যাত অনলাইন প্রতারণা ও অপরাধচক্র পরিচালনার দায়ে একই পরিবারের ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা চিনহুয়া জানিয়েছে, এই ১১ জনকে হত্যা, অবৈধ আটক এবং জালিয়াতিসহ একাধিক গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। গত বছরের সেপ্টেম্বরে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং সম্প্রতি সেই রায় কার্যকর করা হয়েছে।

উত্তর মিয়ানমারের তথাকথিত ‘চার পরিবারের’ একটি ছিল মিং পরিবার। তাদের বিরুদ্ধে শত শত অপরাধকেন্দ্র পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। এসব কেন্দ্রে অনলাইন জালিয়াতি, পতিতাবৃত্তি ও মাদক উৎপাদনের মতো অপরাধ সংঘটিত হতো। অভিযোগ রয়েছে, গোষ্ঠীর অনেক সদস্যই স্থানীয় সরকার ও মিয়ানমারের সামরিক জান্তাসংশ্লিষ্ট মিলিশিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে দুজন রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন। পরে মামলাটি চীনের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম পিপলস কোর্টে যায়। যেখানে মূল রায় বহাল রাখা হয়।

মিং পরিবারের প্রধান ছিল মিং শুয়েচাং। তার নেতৃত্বে মিয়ানমার-চীন সীমান্তবর্তী কোকাং অঞ্চলের কুখ্যাত ‘ক্রাউচিং টাইগার ভিলা’ নামের একটি অপরাধকেন্দ্র পরিচালিত হতো। চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, এক সময় এই চক্রে প্রায় ১০ হাজার মানুষ কাজ করত, যাদের অনেককেই জোরপূর্বক প্রতারণামূলক কাজে বাধ্য করা হতো।

সিএনএন জানিয়েছে, কোকাং অঞ্চলের রাজধানী লাউক্কাইং বহু বছর ধরে বহুজাতিক বিলিয়ন ডলারের অনলাইন প্রতারণা শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। এসব এলাকায় পাচার হওয়া শ্রমিকদের ব্যবহার করে অত্যাধুনিক অনলাইন কৌশলে মানুষকে প্রতারণা করা হতো। দীর্ঘদিন ধরে পাচার হওয়া শ্রমিকদের স্বজনদের অভিযোগ এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিবেদন প্রকাশের পর ২০২৩ সালে চীন এসব অপরাধকেন্দ্রের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করে। ওই বছরের নভেম্বরে চীন মিং পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে এবং তাদের ধরিয়ে দিতে ১৪ হাজার থেকে ৭০ হাজার ডলার পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করে।

চীনা গণমাধ্যম জানায়, পরবর্তীতে গোষ্ঠীর প্রধান মিং শুয়েচাং আটক অবস্থায় আত্মহত্যা করেন। তিনি একসময় মিয়ানমারের একটি অঙ্গরাজ্যের সংসদ সদস্যও ছিলেন।

এবার যাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ছিলেন মিং শুয়েচাংয়ের ছেলে মিং গুওপিং এবং তার নাতনি মিং ঝেনঝেন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাদের নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়।

চিনহুয়া জানায়, মিং পরিবার আরেক অপরাধচক্রের নেতা উ হংমিংয়ের সঙ্গে যোগসাজশে প্রতারণাকেন্দ্রের কর্মীদের ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা, আহত ও অবৈধভাবে আটক করেছিল। এর ফলে অন্তত ১৪ জন চীনা নাগরিকের মৃত্যু হয়। উ হংমিংকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস-সমর্থিত ইউনাইটেড স্টেটস ইনস্টিটিউট অব পিস জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সক্রিয় প্রতারণা চক্রগুলো বছরে ৪৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ হাতিয়ে নেয়।


মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর